কুমিল্লায় মাদকবিরোধী অভিযানে ১০০ জন গ্রেপ্তার, উদ্ধার ১,২২৪ পিস ইয়াবা ও ৩০ কেজি গাঁজা
কুমিল্লায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ১ হাজার ২২৪ পিস ইয়াবা ও ৩০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশ। জেলার বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পৃথক অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীসহ মোট ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।কুমিল্লা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলা পুলিশের সব থানা ও ডিবি পুলিশের উদ্যোগে একযোগে ৫০টি মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালানো হয়।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এসব অভিযানে ২১ জন মাদক ব্যবসায়ী এবং ৭৯ জন মাদকসেবীসহ মোট ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে ১ হাজার ২২৪ পিস ইয়াবা ও ৩০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা, মোবাইল কোর্ট এবং বিজ্ঞ বিচারিক আদালতের সংক্ষিপ্ত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা এবং জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
কুমিল্লায় ডিবির সাঁড়াশি অভিযানে ১০ চিহ্নিত ছিনতাইকারী গ্রেফতার
কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ১০ জন চিহ্নিত ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবি। বৃহস্পতিবার রাতভর নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শামসুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন, কুমিল্লার কোতোয়ালী থানার আড়াইওরা খানপাড়ার কামাল খানের ছেলে মো. রাকিব খান, একই এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে মো. ইমন, শাসনগাছা এলাকার আব্দুল রাজ্জাকের ছেলে মো. সাকিব, সংগ্রায়েস এলাকার মিলন মিয়ার ছেলে মো. নাহিদ, শাসনগাছা এলাকার আব্দুর সামাদের ছেলে মো. শরিফ, বজ্রপুর এলাকার মৃত শাহ আলমের ছেলে মো. রকি, গোবিন্দপুর এলাকার শহিদুল্লাহর ছেলে মো. ইয়াছিন, অশোকতলা এলাকার মো. আলী ইসলামের ছেলে মো. জাহিদ এবং মুরাদনগর থানার সাতমুড়া এলাকার শাহজাহানের ছেলে মো. সোহেল ও পাঁচপুকুরিয়া এলাকার খালেদের ছেলে মো. রবিন।মোঃ শামসুল ইসলাম বলেন, নগরীতে ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। ছিনতাইকারী, কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ইয়াবা বিক্রির ঘটনা আড়াল করতে থানায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ
কুমিল্লায় অলিউল আলম নামে ভারতীয় এক নাগরিক ইয়াবা বিক্রির ঘটনা আড়াল করতে থানায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ দায়ের করেছেন। ডিবি পুলিশের তল্লাশি থেকে ছাড়া পেয়ে নিজের অপরাধ আড়াল করতে ওই নাগরিক কোতোয়ালি মডেল থানায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ করেছেন। অলিউল আলম (৪২) ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সিপাহীজলা জেলার বক্সনগর থানার রহিমপুর গ্রামের বাসিন্দা।জানা গেছে, ভারতীয় নাগরিক অলিউল আলম ভিসা নিয়ে বেশ কয়েক বছর যাবত কুমিল্লায় আসা যাওয়ার মাধ্যমে ইয়াবার কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি তার ইয়াবা কারবারের বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি পুলিশ) কাছে গোপন তথ্য আসে। তাছাড়া ওই কারবারি ইয়াবার স্যাম্পলের ছবি এবং ভিডিও কুমিল্লার মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে প্রেরণ করেন। এতে ঊর্ধ্বতন অফিসারদের নির্দেশে ডিবির এসআই তৌকিক হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স সহ মাদক ব্যবসায়ী অলিউল আলমের ওপর অনলাইনে নজরদারি শুরু করে। গত ৩০ জুলাই ডিবির একজন সোর্স ভারতীয় নাগরিকের কাছে ইয়াবা ক্রয়ের প্রস্তাব দেয়। এদিন দুপুরে কান্দিরপাড় বাহার মার্কেটের নিচতলায় অলিউল আলম ইয়াবার একটি প্যাকেট নিয়ে উপস্থিত হন।এ সময় আগে থেকে ওঁতপেতে থাকা ডিবি পুলিশ তাকে আটক করে তল্লাশি চালায়। প্যাকেট খুলে দেখা যায় এতে বুটের ডাল। পরে পুরো ঘটনার ভিডিও করে উপস্থিত স্বাক্ষীদের সামনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরই মাঝে তার ইয়াবা বিক্রির বেশ কিছু ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এসব ঘটনা ধামাচাপা দিতে ভারতীয় ওই নাগরিক কোতোয়ালি মডেল থানায় ৫/৬ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।অভিযোগে উল্লেখ করেন, তিনি বৈধ কাগজপত্র ও পাসপোর্টের মাধ্যমে গত ৩০ জুলাই সকাল ১০টার দিকে বিবির বাজার চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। তিনি কুমিল্লার বুড়িচং থানার আব্দুল মতিন ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত তার খালাতো ভাই মাহাবুবুল আলমের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন।পরবর্তীতে খালাতো ভাইয়ের পরিবারের জন্য কেনাকাটা করতে দুপুর অনুমান ১২টা ৩০ মিনিট থেকে ১টার মধ্যে কান্দিরপাড় বাহার মার্কেটের সামনে পৌঁছালে ৫/৬ জনের একদল অজ্ঞাতনামা ছিনতাইকারী তার পথরোধ করে। অভিযুক্তরা তার কাছে অবৈধ মালামাল আছে বলে একটি বিরিয়ানির দোকানের ভেতর নিয়ে যায়।সেখানে তার কাছ থেকে ভারতীয় ১৭,৫০০ রুপি, বাংলাদেশি নগদ ১১,৩০০ টাকা এবং গলায় থাকা আনুমানিক ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ১ ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। ছিনতাইকারীরা তাকে থানায় সোপর্দ করার হুমকি দিয়ে মোবাইল ফোনে ভিডিও রেকর্ড করে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।ডিবি পুলিশ জানায়, মূলত ইয়াবা কারবার আড়াল এবং স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের যোগসাজশে এই অভিযোগ করেন ভারতীয় ওই মাদক ব্যবসায়ী। তবে অভিযোগে ডিবি পুলিশ কিংবা কারো নাম তিনি উল্লেখ করেননি। অলিউল আলম বলেন, আমি ভারতীয় নাগরিক বুঝতে পেরে ছিনতাইকারীরা আমার টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নিয়েছে। আমি মাদক ব্যবসায় জড়িত নই।ডিবির এসআই তৌফিক হোসেন বলেন, সেদিন তার কাছে ইয়াবা না পাওয়ায় আমরা তাকে ছেড়ে দিয়েছি। কুমিল্লার বহু মাদক সিন্ডিকেটের সাথে তার যোগসাজশ পাওয়া গেছে। তার ইয়াবা বিক্রির ছবি ভিডিও আমাদের হাতে রয়েছে।এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ভারতীয় এক নাগরিকের দেওয়া একটি অভিযোগ পেয়েছি। তবে তার বিরুদ্ধে ইয়াবা বিক্রির বেশ কিছু ছবি পুলিশের হাতে এসেছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। কুমিল্লা ডিবির ওসি মো. শামসুল আলম শাহ বলেন, অলিউল আলম একজন পেশাদার ইয়াবা ব্যবসায়ী। ইয়াবা ব্যবসা আড়াল করতেই সে মিথ্যা ছিনতাইয়ের অভিযোগ দায়ের করেছে। বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর কাছে পাঠানো তার ইয়াবার ছবি ভিডিও আমাদের হাতে এসেছে। আমরা তার গতিবিধির ওপর নজর রাখছি।