ঢাকা    বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩
কুমিল্লা টেলিকাস্ট

কুমিল্লা

কুমিল্লায় সাংবাদিককে অপহরণের চেষ্টা, টাকা ও মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগ

কুমিল্লায় সাংবাদিককে অপহরণের চেষ্টা, টাকা ও মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগ

কুমিল্লায় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য পরিচয়ে একদল অজ্ঞাত ব্যক্তি এক সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীকে অপহরণের চেষ্টা, মারধর এবং নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কোতয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেছেন, দুর্বৃত্তরা নিজেদের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও মামলার বাদী পরিচয় দিয়ে তাকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয় এবং প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, বাদী মওদুদ আবদুল্লাহ শুভ্র (৩৭)। তিনি কুমিল্লা নগরীর ইসলামপুর (পুরাতন চৌধুরীপাড়া) এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী। অভিযোগে বলা হয়, গত ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১২টা ১০ মিনিটে পেশাগত দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে কোতয়ালী মডেল থানাধীন পাঁচথুবি ইউনিয়নের জালুয়াপাড়া এলাকায় যাওয়ার পথে টিকারচর ব্রিজ সংলগ্ন সড়কে পৌঁছালে একটি কালো রঙের হাইস গাড়ি তার পথরোধ করে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গাড়ি থেকে নেমে আসা অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে ছয়জন পুরুষ এবং দুইজন মহিলা তাকে ঘিরে ধরে। তাদের মধ্যে দুইজন নিজেদের বিশেষ গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, বাদীর বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম ও তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা রয়েছে, যা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার অপেক্ষায় আছে। একই সঙ্গে মানি লন্ডারিং আইনে দুর্নীতি দমন কমিশনেও তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বলেও জানানো হয়। এরপর আরেক ব্যক্তি নিজেকে সাইবার ক্রাইম মামলার বাদী, সাংবাদিক ও ব্লগার পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, বাদীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে এবং চার লাখ টাকা দাবিতে অর্থঋণ আদালতে মামলাও দায়ের করা হয়েছে। অপর একজন নিজেকে সিআইডির কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, কথোপকথনের একপর্যায়ে অভিযুক্তরা কোমর থেকে স্টিক ও হ্যান্ডকাফ বের করে তার হাতে হ্যান্ডকাফ পরানোর চেষ্টা করে। একই সময় তার পরিহিত প্যান্টের পেছনের পকেটে থাকা ১৭ হাজার টাকা এবং বাম হাতে থাকা স্যামসাং গ্যালাক্সি এ-১৬ মডেলের একটি মোবাইল ফোন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়। মোবাইল ফোনটির আনুমানিক মূল্য ৩৫ হাজার টাকা এবং এতে তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বর, ব্যক্তিগত জিমেইল, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো, ম্যাসেঞ্জারসহ বিভিন্ন অ্যাপস লগইন অবস্থায় ছিল। এছাড়া ফোনটিতে ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত ও অফিসিয়াল নথিপত্র সংরক্ষিত ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদীর দাবি, তাকে জোর করে হাইস গাড়িতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি তাদের কাছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কাগজ দেখতে চান এবং গাড়িতে উঠতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে একজন অভিযুক্ত তার হাতে থাকা স্টিক দিয়ে বাদীর বাম বাহুতে আঘাত করলে তিনি আহত হন। পরে জীবন বাঁচাতে কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এ সংক্রান্ত হাসপাতালের টিকিটও অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী মওদুদ আবদুল্লাহ তার অভিযোগে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল এবং পরিকল্পিতভাবে তাকে অপহরণ কিংবা হত্যার উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটাতে পারে। ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোনে থাকা ব্যক্তিগত ও পেশাগত তথ্য অপব্যবহারের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এ ঘটনার পর থেকে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

বিষয় : অভিযোগ

আপনার মতামত লিখুন

কুমিল্লা টেলিকাস্ট

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬


কুমিল্লায় সাংবাদিককে অপহরণের চেষ্টা, টাকা ও মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

কুমিল্লায় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য পরিচয়ে একদল অজ্ঞাত ব্যক্তি এক সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীকে অপহরণের চেষ্টা, মারধর এবং নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কোতয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেছেন, দুর্বৃত্তরা নিজেদের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও মামলার বাদী পরিচয় দিয়ে তাকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয় এবং প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন।


থানায় দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, বাদী মওদুদ আবদুল্লাহ শুভ্র (৩৭)। তিনি কুমিল্লা নগরীর ইসলামপুর (পুরাতন চৌধুরীপাড়া) এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী। অভিযোগে বলা হয়, গত ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১২টা ১০ মিনিটে পেশাগত দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে কোতয়ালী মডেল থানাধীন পাঁচথুবি ইউনিয়নের জালুয়াপাড়া এলাকায় যাওয়ার পথে টিকারচর ব্রিজ সংলগ্ন সড়কে পৌঁছালে একটি কালো রঙের হাইস গাড়ি তার পথরোধ করে।


অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গাড়ি থেকে নেমে আসা অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে ছয়জন পুরুষ এবং দুইজন মহিলা তাকে ঘিরে ধরে। তাদের মধ্যে দুইজন নিজেদের বিশেষ গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, বাদীর বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম ও তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা রয়েছে, যা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার অপেক্ষায় আছে। একই সঙ্গে মানি লন্ডারিং আইনে দুর্নীতি দমন কমিশনেও তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বলেও জানানো হয়। এরপর আরেক ব্যক্তি নিজেকে সাইবার ক্রাইম মামলার বাদী, সাংবাদিক ও ব্লগার পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, বাদীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে এবং চার লাখ টাকা দাবিতে অর্থঋণ আদালতে মামলাও দায়ের করা হয়েছে। অপর একজন নিজেকে সিআইডির কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন।


লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, কথোপকথনের একপর্যায়ে অভিযুক্তরা কোমর থেকে স্টিক ও হ্যান্ডকাফ বের করে তার হাতে হ্যান্ডকাফ পরানোর চেষ্টা করে। একই সময় তার পরিহিত প্যান্টের পেছনের পকেটে থাকা ১৭ হাজার টাকা এবং বাম হাতে থাকা স্যামসাং গ্যালাক্সি এ-১৬ মডেলের একটি মোবাইল ফোন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়। মোবাইল ফোনটির আনুমানিক মূল্য ৩৫ হাজার টাকা এবং এতে তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বর, ব্যক্তিগত জিমেইল, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো, ম্যাসেঞ্জারসহ বিভিন্ন অ্যাপস লগইন অবস্থায় ছিল। এছাড়া ফোনটিতে ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত ও অফিসিয়াল নথিপত্র সংরক্ষিত ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


বাদীর দাবি, তাকে জোর করে হাইস গাড়িতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি তাদের কাছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কাগজ দেখতে চান এবং গাড়িতে উঠতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে একজন অভিযুক্ত তার হাতে থাকা স্টিক দিয়ে বাদীর বাম বাহুতে আঘাত করলে তিনি আহত হন। পরে জীবন বাঁচাতে কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।


অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এ সংক্রান্ত হাসপাতালের টিকিটও অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।


ভুক্তভোগী মওদুদ আবদুল্লাহ তার অভিযোগে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল এবং পরিকল্পিতভাবে তাকে অপহরণ কিংবা হত্যার উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটাতে পারে। ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোনে থাকা ব্যক্তিগত ও পেশাগত তথ্য অপব্যবহারের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এ ঘটনার পর থেকে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।


কুমিল্লা টেলিকাস্ট


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
কুমিল্লায় সাংবাদিককে অপহরণের চেষ্টা, টাকা ও মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগ
0:00 0:00
1.0x