কুমিল্লায় সাংবাদিক ও পেশাজীবী মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্রকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের তৎপরতার অভিযোগ আরও নতুন মাত্রা পেয়েছে। সর্বশেষ তিনি দাবি করেছেন, চলমান মামলাগুলো প্রত্যাহারে চাপ সৃষ্টি করতে একটি চক্র তাঁকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রেখেছে। বাসার আশপাশে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের ঘোরাফেরা, সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর, ছাদে ওঠার চেষ্টা, মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার হামলাসহ বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে আতঙ্কের মধ্যে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র বলেন, কয়েকদিন অসুস্থ থাকায় তিনি বাসার ছাদে যেতে পারেননি। তবে তাঁর বাসায় স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরায় বিভিন্ন ব্যক্তির আনাগোনার বিষয়টি ধরা পড়ে। তাঁর দাবি, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে। পরে আবারও ছাদে উঠে ক্যামেরার একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। এ ঘটনার পর কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বলেও জানান তিনি।
শুভ্রর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কিছু ব্যক্তি তাঁর চলাফেরা ও মোবাইল ফোনের গতিবিধি অনুসরণ করছে। সন্দেহজনক মনে হওয়ায় কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে কেউ পরিচয় গোপন করে চলে যায়, আবার কেউ নিজেদের প্রশাসনের লোক বলে পরিচয় দেয়। তবে তিনি বলেন, তিনি যেহেতু একাধিক মামলার বাদী, তাই এ ধরনের পরিচয় দিয়ে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।
তাঁর ভাষ্য, চলমান জিআর মামলাগুলো প্রত্যাহার করাতে অভিযুক্ত ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের সহযোগীরা বিভিন্ন দালাল চক্রের মাধ্যমে পেশাদার অপরাধী, টোকাই ও চোরদের ব্যবহার করে ধারাবাহিকভাবে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ চাইলে সিসিটিভি ফুটেজ, ভয়েস রেকর্ড এবং আশপাশের অন্যান্য ক্যামেরার ভিডিও সংগ্রহ করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে পারত। তাঁর দাবি, তদন্তে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ায় অপরাধীদের তৎপরতা আরও বেড়েছে।
শুভ্র আরও বলেন, তদন্তের স্বার্থে পুরো এলাকায় পুলিশের সমন্বিত অভিযান ও স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে অনেক তথ্য বেরিয়ে আসতে পারত। কিন্তু সেটি হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ। তিনি দাবি করেন, তিনি অর্থনৈতিকভাবে প্রভাব খাটাতে সক্ষম নন বলেই তাঁর অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হচ্ছে না।
এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাঁর মোবাইল ফোন হ্যাকিং, ফেসবুক আইডি হ্যাকিং ও ক্লোনিং, তথ্য বিকৃতি এবং বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁর মতে, এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ কোনো একক ব্যক্তি নয়, বরং একটি সংগঠিত চক্রের পক্ষেই সম্ভব। তিনি বলেন, যদি কেউ অপরাধীদের স্বার্থ রক্ষায় সহযোগিতা করে, তবে তা কেবল একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, রাষ্ট্র পরিচালিত বিচারিক প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধেও অবস্থান নেওয়ার শামিল।
এর আগে মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র অভিযোগ করেন, গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি সংঘবদ্ধ একটি অপরাধী চক্রের টার্গেটে পরিণত হয়েছেন। হামলা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, প্রাণনাশের হুমকি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, সাইবার হয়রানি এবং মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে তিনি একাধিক মামলা, সাধারণ ডায়েরি (জিডি), লিখিত অভিযোগ ও স্মারকলিপি দিলেও এখনো কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা পাননি বলে দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, এসব ঘটনার উদ্দেশ্য ছিল তাঁকে পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা থেকে বিরত রাখা।
তিনি জানান, ২০১৭ সালের ৩ মে থেকে ২০২৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে জীবনের নিরাপত্তা, পরিবারের সুরক্ষা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে একাধিক জিডি করেছেন। বিভিন্ন ঘটনায় মোটরসাইকেলে আসা হেলমেটধারী দুর্বৃত্তরা তাঁর ওপর হামলা চালিয়েছে, সংবাদ সংগ্রহের সরঞ্জাম, মোবাইল ফোন, গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসংবলিত ডিভাইস ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।
সর্বশেষ ১৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে তিনি কুমিল্লা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-১ এ একটি সিআর মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করা হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানাকে দেন।
শুভ্রর দাবি, অভিযুক্ত চক্রটি নাম্বার প্লেটবিহীন মোটরসাইকেল, মাস্ক ও লাল-কালো রঙের হেলমেট ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত করে। ভাড়াটে বখাটে, ছিনতাইকারী ও কিছু নারী সদস্যকে ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল, সামাজিক হয়রানি, মব সৃষ্টি, হামলা, ভুয়া প্রশাসনিক পরিচয় ব্যবহার, সাইবার অপরাধ এবং অপহরণের চেষ্টার মতো ঘটনাও ঘটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে তাঁর দায়ের করা একাধিক মামলা কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় তদন্তাধীন রয়েছে। কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার হলেও মূল পরিকল্পনাকারী ও অন্যান্য সহযোগীরা এখনও ধরা পড়েনি। বরং বিভিন্নভাবে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ, হুমকি ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে লক্ষ্য করে ফেক আইডি ও অনিবন্ধিত পেজ থেকে বিকৃত ছবি, মানহানিকর পোস্ট এবং কাফনে মোড়ানো প্রতীকী ছবি ছড়িয়ে ভয়ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শুভ্র। এসব ঘটনায় তিনি কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় অনলাইন জিডি, লিখিত অভিযোগ এবং জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়েছেন।
এ বিষয়ে মানবাধিকার কর্মী ও ‘মানবাধিকার খবর’-এর সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, একজন সাংবাদিক যদি বছরের পর বছর নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন এবং বারবার আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার না পান, তবে বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
অন্যদিকে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলা ও জিডিগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে। অভিযুক্তরা ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করায় গ্রেপ্তারে কিছুটা সময় লাগছে। তবে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং বাকি আসামিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
দীর্ঘদিন ধরে একজন সাংবাদিককে ঘিরে ধারাবাহিক অভিযোগ, মামলা ও নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি কুমিল্লার বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাংবাদিক মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
বিষয় : অভিযোগ

শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬
কুমিল্লায় সাংবাদিক ও পেশাজীবী মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্রকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের তৎপরতার অভিযোগ আরও নতুন মাত্রা পেয়েছে। সর্বশেষ তিনি দাবি করেছেন, চলমান মামলাগুলো প্রত্যাহারে চাপ সৃষ্টি করতে একটি চক্র তাঁকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রেখেছে। বাসার আশপাশে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের ঘোরাফেরা, সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর, ছাদে ওঠার চেষ্টা, মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার হামলাসহ বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে আতঙ্কের মধ্যে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র বলেন, কয়েকদিন অসুস্থ থাকায় তিনি বাসার ছাদে যেতে পারেননি। তবে তাঁর বাসায় স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরায় বিভিন্ন ব্যক্তির আনাগোনার বিষয়টি ধরা পড়ে। তাঁর দাবি, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে। পরে আবারও ছাদে উঠে ক্যামেরার একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। এ ঘটনার পর কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বলেও জানান তিনি।
শুভ্রর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কিছু ব্যক্তি তাঁর চলাফেরা ও মোবাইল ফোনের গতিবিধি অনুসরণ করছে। সন্দেহজনক মনে হওয়ায় কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে কেউ পরিচয় গোপন করে চলে যায়, আবার কেউ নিজেদের প্রশাসনের লোক বলে পরিচয় দেয়। তবে তিনি বলেন, তিনি যেহেতু একাধিক মামলার বাদী, তাই এ ধরনের পরিচয় দিয়ে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।
তাঁর ভাষ্য, চলমান জিআর মামলাগুলো প্রত্যাহার করাতে অভিযুক্ত ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের সহযোগীরা বিভিন্ন দালাল চক্রের মাধ্যমে পেশাদার অপরাধী, টোকাই ও চোরদের ব্যবহার করে ধারাবাহিকভাবে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ চাইলে সিসিটিভি ফুটেজ, ভয়েস রেকর্ড এবং আশপাশের অন্যান্য ক্যামেরার ভিডিও সংগ্রহ করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে পারত। তাঁর দাবি, তদন্তে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ায় অপরাধীদের তৎপরতা আরও বেড়েছে।
শুভ্র আরও বলেন, তদন্তের স্বার্থে পুরো এলাকায় পুলিশের সমন্বিত অভিযান ও স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে অনেক তথ্য বেরিয়ে আসতে পারত। কিন্তু সেটি হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ। তিনি দাবি করেন, তিনি অর্থনৈতিকভাবে প্রভাব খাটাতে সক্ষম নন বলেই তাঁর অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হচ্ছে না।
এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাঁর মোবাইল ফোন হ্যাকিং, ফেসবুক আইডি হ্যাকিং ও ক্লোনিং, তথ্য বিকৃতি এবং বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁর মতে, এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ কোনো একক ব্যক্তি নয়, বরং একটি সংগঠিত চক্রের পক্ষেই সম্ভব। তিনি বলেন, যদি কেউ অপরাধীদের স্বার্থ রক্ষায় সহযোগিতা করে, তবে তা কেবল একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, রাষ্ট্র পরিচালিত বিচারিক প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধেও অবস্থান নেওয়ার শামিল।
এর আগে মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র অভিযোগ করেন, গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি সংঘবদ্ধ একটি অপরাধী চক্রের টার্গেটে পরিণত হয়েছেন। হামলা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, প্রাণনাশের হুমকি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, সাইবার হয়রানি এবং মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে তিনি একাধিক মামলা, সাধারণ ডায়েরি (জিডি), লিখিত অভিযোগ ও স্মারকলিপি দিলেও এখনো কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা পাননি বলে দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, এসব ঘটনার উদ্দেশ্য ছিল তাঁকে পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা থেকে বিরত রাখা।
তিনি জানান, ২০১৭ সালের ৩ মে থেকে ২০২৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে জীবনের নিরাপত্তা, পরিবারের সুরক্ষা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে একাধিক জিডি করেছেন। বিভিন্ন ঘটনায় মোটরসাইকেলে আসা হেলমেটধারী দুর্বৃত্তরা তাঁর ওপর হামলা চালিয়েছে, সংবাদ সংগ্রহের সরঞ্জাম, মোবাইল ফোন, গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসংবলিত ডিভাইস ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।
সর্বশেষ ১৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে তিনি কুমিল্লা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-১ এ একটি সিআর মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করা হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানাকে দেন।
শুভ্রর দাবি, অভিযুক্ত চক্রটি নাম্বার প্লেটবিহীন মোটরসাইকেল, মাস্ক ও লাল-কালো রঙের হেলমেট ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত করে। ভাড়াটে বখাটে, ছিনতাইকারী ও কিছু নারী সদস্যকে ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল, সামাজিক হয়রানি, মব সৃষ্টি, হামলা, ভুয়া প্রশাসনিক পরিচয় ব্যবহার, সাইবার অপরাধ এবং অপহরণের চেষ্টার মতো ঘটনাও ঘটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে তাঁর দায়ের করা একাধিক মামলা কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় তদন্তাধীন রয়েছে। কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার হলেও মূল পরিকল্পনাকারী ও অন্যান্য সহযোগীরা এখনও ধরা পড়েনি। বরং বিভিন্নভাবে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ, হুমকি ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে লক্ষ্য করে ফেক আইডি ও অনিবন্ধিত পেজ থেকে বিকৃত ছবি, মানহানিকর পোস্ট এবং কাফনে মোড়ানো প্রতীকী ছবি ছড়িয়ে ভয়ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শুভ্র। এসব ঘটনায় তিনি কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় অনলাইন জিডি, লিখিত অভিযোগ এবং জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়েছেন।
এ বিষয়ে মানবাধিকার কর্মী ও ‘মানবাধিকার খবর’-এর সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, একজন সাংবাদিক যদি বছরের পর বছর নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন এবং বারবার আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার না পান, তবে বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
অন্যদিকে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলা ও জিডিগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে। অভিযুক্তরা ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করায় গ্রেপ্তারে কিছুটা সময় লাগছে। তবে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং বাকি আসামিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
দীর্ঘদিন ধরে একজন সাংবাদিককে ঘিরে ধারাবাহিক অভিযোগ, মামলা ও নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি কুমিল্লার বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাংবাদিক মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন