কুমিল্লার পেশাজীবী ও গণমাধ্যমকর্মী মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্রকে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া, তার চলাফেরার ওপর নজরদারি এবং পুনরায় অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আগে দায়ের হওয়া জিআর ও সিআর মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন থাকলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নতুন করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র দাবি করেন, বুধবার (১ জুলাই) সকালে পেশাগত কাজে বের হলে একটি সংঘবদ্ধ চক্র তার কাজে বাধা সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে মোটরসাইকেল ও একটি সাদা রঙের হাউজ কার ব্যবহার করে তাকে অনুসরণ এবং অপহরণের চেষ্টা চালানো হয়। এছাড়া বিভিন্ন মাধ্যমে তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে তথ্য বিভ্রান্তি ছড়ানোরও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় দায়ের হওয়া এফআইআরভুক্ত জিআর মামলা ও আদালতে চলমান সিআর মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টি উল্লেখ করে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছে। তবে তদন্ত চলমান থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্ত ও অজ্ঞাতনামা সহযোগীরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন অপরাধ সংঘটিত করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্রের দাবি, প্রায় এক দশক ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ছদ্মবেশে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, হয়রানি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তিনি অভিযোগ করেন, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাকে পেশাগত ও ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে তিনি চেয়ারম্যান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, অপরাধ দমন এবং সংশ্লিষ্ট সকলের গ্রেপ্তারে কার্যকর অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, সাংবাদিক ও পেশাজীবী মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্রের দায়ের করা মামলাগুলোর তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তে বিভিন্ন আলামত, সাধারণ ডায়েরি (জিডি), আদালতের আদেশ, সিসিটিভি ফুটেজ এবং মামলার নথিপত্র পর্যালোচনায় বেশ কিছু সংঘটিত ও পরিকল্পিত অপরাধের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়। সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, মামলা রেকর্ড হওয়ার পর তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২৮টিরও বেশি অপরাধের তথ্য মামলার ফিরিস্তি ও সংযুক্ত নথিতে রয়েছে এবং একাধিক আমলযোগ্য অপরাধের ঘটনাও তদন্তে উঠে এসেছে।
সূত্রটি আরও জানায়, বিষয়টি নিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে আলোচনা চলছে এবং চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রণয়নের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর সাইবার অপরাধ, অপহরণের চেষ্টা, অনুসরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়া নামীয় ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের সম্পৃক্ততার বিষয়েও তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়।
পুলিশ সূত্রের দাবি, তদন্তে এমন কিছু অভিযোগ ও তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে, যেখানে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পরিচয়ে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছে বলে উল্লেখ রয়েছে। এসব অভিযোগ আদালতে দাখিল করা নথিপত্রেরও অংশ। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্রটি জানায়, সরকার পরিচালিত মামলার তদন্তে বাধা দেওয়া, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার বা মামলার গতিপথ পরিবর্তনের চেষ্টা আইনসম্মত নয়। কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশই আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলাগুলোর তদন্ত করছে এবং তদন্তে যার বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যাবে, তিনি যে-ই হোন, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সরকার পরিচালিত মামলাকে ঘিরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তি সৃষ্টি বা তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে সেসব বিষয়েও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সূত্রটি দাবি করেছে।
বিষয় : অভিযোগ

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬
কুমিল্লার পেশাজীবী ও গণমাধ্যমকর্মী মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্রকে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া, তার চলাফেরার ওপর নজরদারি এবং পুনরায় অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আগে দায়ের হওয়া জিআর ও সিআর মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন থাকলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নতুন করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র দাবি করেন, বুধবার (১ জুলাই) সকালে পেশাগত কাজে বের হলে একটি সংঘবদ্ধ চক্র তার কাজে বাধা সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে মোটরসাইকেল ও একটি সাদা রঙের হাউজ কার ব্যবহার করে তাকে অনুসরণ এবং অপহরণের চেষ্টা চালানো হয়। এছাড়া বিভিন্ন মাধ্যমে তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে তথ্য বিভ্রান্তি ছড়ানোরও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় দায়ের হওয়া এফআইআরভুক্ত জিআর মামলা ও আদালতে চলমান সিআর মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টি উল্লেখ করে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছে। তবে তদন্ত চলমান থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্ত ও অজ্ঞাতনামা সহযোগীরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন অপরাধ সংঘটিত করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্রের দাবি, প্রায় এক দশক ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ছদ্মবেশে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, হয়রানি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তিনি অভিযোগ করেন, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাকে পেশাগত ও ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে তিনি চেয়ারম্যান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, অপরাধ দমন এবং সংশ্লিষ্ট সকলের গ্রেপ্তারে কার্যকর অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, সাংবাদিক ও পেশাজীবী মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্রের দায়ের করা মামলাগুলোর তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তে বিভিন্ন আলামত, সাধারণ ডায়েরি (জিডি), আদালতের আদেশ, সিসিটিভি ফুটেজ এবং মামলার নথিপত্র পর্যালোচনায় বেশ কিছু সংঘটিত ও পরিকল্পিত অপরাধের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়। সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, মামলা রেকর্ড হওয়ার পর তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২৮টিরও বেশি অপরাধের তথ্য মামলার ফিরিস্তি ও সংযুক্ত নথিতে রয়েছে এবং একাধিক আমলযোগ্য অপরাধের ঘটনাও তদন্তে উঠে এসেছে।
সূত্রটি আরও জানায়, বিষয়টি নিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে আলোচনা চলছে এবং চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রণয়নের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর সাইবার অপরাধ, অপহরণের চেষ্টা, অনুসরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়া নামীয় ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের সম্পৃক্ততার বিষয়েও তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়।
পুলিশ সূত্রের দাবি, তদন্তে এমন কিছু অভিযোগ ও তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে, যেখানে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পরিচয়ে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছে বলে উল্লেখ রয়েছে। এসব অভিযোগ আদালতে দাখিল করা নথিপত্রেরও অংশ। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্রটি জানায়, সরকার পরিচালিত মামলার তদন্তে বাধা দেওয়া, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার বা মামলার গতিপথ পরিবর্তনের চেষ্টা আইনসম্মত নয়। কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশই আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলাগুলোর তদন্ত করছে এবং তদন্তে যার বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যাবে, তিনি যে-ই হোন, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সরকার পরিচালিত মামলাকে ঘিরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তি সৃষ্টি বা তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে সেসব বিষয়েও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সূত্রটি দাবি করেছে।

আপনার মতামত লিখুন