কুমিল্লায় একাধিক মামলার বাদী ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মী মওদুদ আব্দুল্লাহ নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে তিনি দাবি করেন, দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার করতে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি, হামলা, চাঁদাবাজির চেষ্টা, লুটপাট, মানহানি এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তিনি পুলিশ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সম্প্রতি পুলিশ সুপার বরাবর দেওয়া আবেদনে মওদুদ আব্দুল্লাহ উল্লেখ করেন, তার দায়ের করা একটি ফৌজদারি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন এবং একই সঙ্গে কোতয়ালী মডেল থানায় তদন্তাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, একজন আইন মেনে চলা নাগরিক হিসেবে নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিয়ে মামলাটি পরিচালনা করে আসছেন। তবে মামলার শুরু থেকেই আসামিপক্ষ মামলা প্রত্যাহার করাতে নানা ধরনের চাপ, ভয়ভীতি ও ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি তার পেশাগত কর্মকাণ্ড এবং ব্যক্তিগত জীবনেও বিভিন্নভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আবেদনে তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর দুইটি মোটরসাইকেলে আসা চারজন ব্যক্তি নিজেদের প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে তার পথরোধ করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মামলা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় এবং পেশাগত কাজে ব্যবহৃত একটি ডিজিটাল ক্যামেরা ও একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ওই ডিভাইসগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ উপকরণ, ছবি, ভিডিও, প্রেস রিলিজ এবং ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষিত ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মওদুদ আব্দুল্লাহ জানান, ঘটনার পর চিকিৎসা গ্রহণ করে তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর, ডিভাইসের বক্স এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করে মামলা রুজু করে। তবে মামলা হওয়ার পরও অভিযুক্তরা তাদের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত আবেদনে তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে তার বাসা ও ব্যক্তিগত কক্ষে গোপনে ক্যামেরা স্থাপন করে ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়, যা পরে পুলিশ জব্দ করলেও ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ অভিযুক্তদের হাতেই ছিল বলে তিনি দাবি করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তথ্য বিকৃতি ও সাইবার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে একাধিক সাধারণ ডায়েরি করার পর আদালতের নির্দেশে তদন্ত শুরু হয় এবং আদালত বিষয়টিকে আমলযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে তদন্তের নির্দেশ দেন বলে তিনি জানান।
মওদুদ আব্দুল্লাহর ভাষ্য, বিভিন্ন ঘটনার প্রতিবাদে তিনি সংবাদ সম্মেলন করেন। পরবর্তীতে জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে মামলার অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে আসামিপক্ষ আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এরপর তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার, গুজব ছড়ানো, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা, চাঁদা দাবি এবং বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া তার বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর এবং বাড়ির আশপাশে ভয়ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন আলামত ফেলে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।
আবেদনে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের প্রশাসনের সদস্য ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে তার চলমান মামলাগুলো নিষ্পত্তির প্রস্তাব দেন এবং এ জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করেন। একই সময়ে তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের আদালতের নামে কথিত গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কাগজ দেখিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়। পরে আইনজীবীর পরামর্শে বিষয়টি যাচাইয়ের আবেদন করলে পুলিশের তদন্তে জানা যায়, ওই পরোয়ানাগুলো তার নামে নয়, একই নামের অন্য এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে জারি করা হয়েছিল। এরপরও সেই ভুয়া তথ্য দেখিয়ে বারবার অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মওদুদ আব্দুল্লাহ জানান, এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি আদালতে আরও একটি মামলা দায়ের করেন, যা আদালত আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আদালতের নির্দেশে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আবেদনের শেষাংশে তিনি বলেন, অভিযুক্তরা এখনও সংঘবদ্ধভাবে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই নিজের ও পরিবারের জীবন এবং সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
বিষয় : মওদুদ

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬
কুমিল্লায় একাধিক মামলার বাদী ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মী মওদুদ আব্দুল্লাহ নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে তিনি দাবি করেন, দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার করতে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি, হামলা, চাঁদাবাজির চেষ্টা, লুটপাট, মানহানি এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তিনি পুলিশ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সম্প্রতি পুলিশ সুপার বরাবর দেওয়া আবেদনে মওদুদ আব্দুল্লাহ উল্লেখ করেন, তার দায়ের করা একটি ফৌজদারি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন এবং একই সঙ্গে কোতয়ালী মডেল থানায় তদন্তাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, একজন আইন মেনে চলা নাগরিক হিসেবে নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিয়ে মামলাটি পরিচালনা করে আসছেন। তবে মামলার শুরু থেকেই আসামিপক্ষ মামলা প্রত্যাহার করাতে নানা ধরনের চাপ, ভয়ভীতি ও ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি তার পেশাগত কর্মকাণ্ড এবং ব্যক্তিগত জীবনেও বিভিন্নভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আবেদনে তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর দুইটি মোটরসাইকেলে আসা চারজন ব্যক্তি নিজেদের প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে তার পথরোধ করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মামলা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় এবং পেশাগত কাজে ব্যবহৃত একটি ডিজিটাল ক্যামেরা ও একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ওই ডিভাইসগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ উপকরণ, ছবি, ভিডিও, প্রেস রিলিজ এবং ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষিত ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মওদুদ আব্দুল্লাহ জানান, ঘটনার পর চিকিৎসা গ্রহণ করে তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর, ডিভাইসের বক্স এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করে মামলা রুজু করে। তবে মামলা হওয়ার পরও অভিযুক্তরা তাদের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত আবেদনে তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে তার বাসা ও ব্যক্তিগত কক্ষে গোপনে ক্যামেরা স্থাপন করে ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়, যা পরে পুলিশ জব্দ করলেও ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ অভিযুক্তদের হাতেই ছিল বলে তিনি দাবি করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তথ্য বিকৃতি ও সাইবার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে একাধিক সাধারণ ডায়েরি করার পর আদালতের নির্দেশে তদন্ত শুরু হয় এবং আদালত বিষয়টিকে আমলযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে তদন্তের নির্দেশ দেন বলে তিনি জানান।
মওদুদ আব্দুল্লাহর ভাষ্য, বিভিন্ন ঘটনার প্রতিবাদে তিনি সংবাদ সম্মেলন করেন। পরবর্তীতে জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে মামলার অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে আসামিপক্ষ আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এরপর তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার, গুজব ছড়ানো, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা, চাঁদা দাবি এবং বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া তার বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর এবং বাড়ির আশপাশে ভয়ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন আলামত ফেলে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।
আবেদনে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের প্রশাসনের সদস্য ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে তার চলমান মামলাগুলো নিষ্পত্তির প্রস্তাব দেন এবং এ জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করেন। একই সময়ে তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের আদালতের নামে কথিত গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কাগজ দেখিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়। পরে আইনজীবীর পরামর্শে বিষয়টি যাচাইয়ের আবেদন করলে পুলিশের তদন্তে জানা যায়, ওই পরোয়ানাগুলো তার নামে নয়, একই নামের অন্য এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে জারি করা হয়েছিল। এরপরও সেই ভুয়া তথ্য দেখিয়ে বারবার অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মওদুদ আব্দুল্লাহ জানান, এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি আদালতে আরও একটি মামলা দায়ের করেন, যা আদালত আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আদালতের নির্দেশে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আবেদনের শেষাংশে তিনি বলেন, অভিযুক্তরা এখনও সংঘবদ্ধভাবে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই নিজের ও পরিবারের জীবন এবং সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন